সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল-২০১৪ আজ বুধবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৪০ বছর পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ন্যস্ত হলো।

বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করলে তা সংবিধানের অংশ হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রাত সাতটা ৪০ মিনিটে বিলটি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য স্পিকারের অনুমতি প্রার্থনা করেন। এরপর বিলের ওপর দেওয়া নোটিশ নিষ্পত্তি শেষে তা বিভক্তি ভোটে পাস হয়।

বিলটি পাসের আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। জনমত যাচাইয়ের বিষয়টি ভোটে দেওয়া হলে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদসহ নোটিশদাতাদের অনেকেই তাঁদের নোটিশের বিপক্ষে ভোট দেন। এ নিয়ে সরকারি দলের সাংসদেরা কিছুক্ষণ হাসাহাসিও করেন।

আজ বিল নিয়ে আলোচনার সময় রাত সাড়ে আটটায় হঠাত্ করে সংসদের শব্দযন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে। পরে ঠিক হলেও সবগুলো মাইক কার্যকর ছিল না। সে কারণে অনেকের বক্তব্য স্পষ্ট শোনা যায়নি।

৭ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।

পাস হওয়া বিলে ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে দফা ২-এ বলা হয়েছে, প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠ সদস্যের প্রস্তাবক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণ করা যাবে।

৩ দফায় বলা হয়েছে, সাংসদদের প্রস্তাব-সম্পর্কিত এবং বিচারকের অসদাচরণ ও অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। ৪ দফায় বলা হয়েছে, কোনো বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।

এর আগে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ন্যস্ত হয়েছিল। এরপর সামরিক ফরমানের দ্বারা পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ন্যস্ত হয়। প্রধান বিচারপতি ও অপর দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নিয়ে জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়।

২০১২ সালে সড়ক ভবনকে কেন্দ্র করে আদালতের একটি রায় নিয়ে সংসদে বিরূপ সমালোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন বিচারক সংসদ ও স্পিকারকে নিয়ে মন্তব্য করলে সেই সময় সাংসদদের অনেকেই বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে আনার দাবি তোলেন। এ নিয়ে স্পিকার পরে একটি রুলিংও দেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে। আইন অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে না। বিলটি আইনে পরিণত হলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।

বিলের ওপর আলোচনা

বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, মহাসচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, এম এ হান্নান, ইয়াহইয়া চৌধুরী, রওশন আরা মান্নান, নুরুল ইসলাম, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল, বিএনএফ এর আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী, হাজি মো. সেলিম, তাহজীব আলম সিদ্দিকী ও আবদুল মতিন।

বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী, হাজি মো. সেলিম, তাহজীব আলম সিদ্দিকী, আবদুল মতিন, জাতীয় পার্টির এম এ হান্নান, ইয়াহইয়া চৌধুরী ও রওশন আরা মান্নান এবং বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ।

এ-সম্পর্কিত আলোচনায় বেশির ভাগ সদস্য বলেন, বিলটি তড়িঘড়ি করে আনা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে জনমত নেওয়া দরকার।

রওশন এরশাদ বলেন, যাঁরা সংবিধানে এই অনুচ্ছেদটি জুড়েছিলেন, তাঁরাই এখন এর বিরোধিতা করছেন। জনমনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগেই বিচারপতি নিয়োগের আইন করা হলে ঝামেলা কমে যেতো।

এইচ এম এরশাদ তাঁর প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু করার পরপরই শব্দযন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে । স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় সাংসদদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা অপেক্ষা করুন। ওরা দেখছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তাকিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ সংবিধান সংশোধন বিল পাস হচ্ছে। তোমরা এগুলো দেখবে না!’

তখন সংসদ সচিবালয়ের সচিব আশরাফুল মকবুল নিজের আসন ছেড়ে  অধিবেশনকক্ষের বাইরে চলে যান। পাঁচ মিনিট পর শব্দযন্ত্র আংশিকভাবে ঠিক হলেও সব মাইক কাজ করেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত কারও বক্তব্য স্পষ্ট শোনা যায়নি।

এরশাদ শুরুতে বলেন, ‘বিলটিকে সঠিক বললে গৃহপালিত হয়ে যাই। মানি না, মানব না বলে যদি ওয়াকআউট করি, হরতাল করি, তাহলে সত্যিকার অর্থে বিরোধী দল হতে পারব। মধ্যরাতে টক শোতেও প্রশংসা পাব। কিন্তু মধ্যরাতে কে কী বলল, আমরা সেটা ভাবি না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে, সংবিধানের পক্ষে, সেই অনুযায়ী কাজ করি। তার পরও এটি একটি স্পর্শকাতর বিল। কথা হচ্ছে, এ বিলটি পাস হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে কি না। এ বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা বেশি। আমরা মনে করি, এই ক্ষমতা সংসদের কাছে থাকা উচিত। তবে জনগণকে বিষয়টি জানানো উচিত।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার পক্ষে নই। এক বালতি দুধে খারাপ কিছু পড়লে পুরো দুধই নষ্ট হয়ে যায়। বিচার বিভাগ নিশ্চয় অনুধাবন করবেন, আমরা তাঁদের রক্ষা করতে চাই। তাঁদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। বিলটি নিয়ে মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। সুতরাং জনমত যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই।’

বিলটির ওপর বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ এবং স্বতন্ত্র ১৫ জন সদস্য মোট ৩০টি সংশোধনী প্রস্তাব দেন।

এর মধ্যে রুস্তম আলী ফরাজী বিচারকদের চাকরির বয়স ৭০ করার প্রস্তাব দেন। ফিরোজ রশীদ জুডিশিয়াল ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দেন।

ওয়ার্কার্স পাটির ফজলে হোসেন বাদশা, মোস্তফা লুত্ফুল্লাহ, শেখ হাফিজুর রহমান, টিপু সুলতান ও ইয়াসিন আলী, জাসদের শিরীন আখতার ও নাজমুল হক প্রধান এবং রুস্তম আলী ফরাজী বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়নের বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। শেষ পর্যন্ত স্পিকার বিলটি পাসের জন্য ভোটে দিলে প্রথমে তা কণ্ঠভোটে গ্রহণ করা হয়। পরে বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে সেটি পাস হয়। বিভক্তি ভোটের সময় সাংসদেরা তাঁদের আসন ছেড়ে লবিতে গিয়ে নির্ধারিত ব্যালটে স্বাক্ষর দিয়ে ভোট দেন।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সমর্থকদের ওপর পুলিশের হামলার পর মঞ্চের নেতা-কর্মীদের কাছে অবিভক্ত মঞ্চের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। কীভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন জোরদার করা যায়, সে বিষয়ে দুই অংশের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এই দুই বলয়ের বাইরে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও দুই অংশকে ঐক্যবদ্ধ করতে মধ্যস্থতা করছেন।


আজ বুধবার জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার রায় প্রত্যাখ্যান করেছে গণজাগরণ মঞ্চের উভয় পক্ষ।


সকাল থেকেই পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ রায়ের বিরুদ্ধে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চের দুই অংশ। দুপুর পৌনে ১২টার আগে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়ার সময় ইমরান এইচ সরকারের অংশের লোকজনের ওপর জলকামান দিয়ে গরম পানি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ অন্তত চারজন আহত হন। তাঁদের সাংবাদিকদের গাড়িতে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।


এ সময় জাতীয় জাদুঘরের সামনে কামাল পাশা চৌধুরী অংশের প্রতিবাদী গণসংগীত চলছিল। একপর্যায়ে গণসংগীত থামিয়ে কামাল পাশা চৌধুরী মাইক নিয়ে বলেন, ‘গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের ওপর এই হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’ তিনি সব পক্ষকে এক হওয়ার আহ্বান জানান। পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই অংশেরই আরেক নেতা বলেন, ‘আমরা শাহবাগে আন্দোলন করছি ইমরান ভাই ও কামাল ভাইয়ের নেতৃত্বে।’
কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে শাহবাগের মূল চত্বর থেকে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন। সেখানেও জলকামান দিয়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।


জানতে চাইলে পুলিশের রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলী নোমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কোনো সমাবেশে বাধা দেইনি। যখন যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে, তখনই কেবল আমাদের অ্যাকশনে যেতে হয়েছে।’
ইমরান এইচ সরকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‘শাহবাগ আন্দোলনের’ কর্মীদের দুই পক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করে একটি কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তাব করেন। গত ৮ এপ্রিল পাঁচটি বাম ছাত্র সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করে দুই অংশের কারও সঙ্গে না থাকার ঘোষণা দিয়েছিল। ওই সংগঠনের নেতারাই ‘শাহবাগ আন্দোলন’ নামে আলাদা কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন সময়। এঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম সুমন প্রমুখ। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ অনলাইন নেটওয়ার্ক ফোরামের (বোয়ান) একাংশ। গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অংশটি ইমরান এইচ সরকারের প্রতি অনাস্থা জানায়।


আজ দুপুর ১২টার পর বাপ্পাদিত্য বসু ও বোয়ানের নেতা কানিজ আকলিমা সুলতানা ইমরানবিরোধী অংশের নেতা কামাল পাশা চৌধুরীর কাছে একসঙ্গে কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এ সময় কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিভক্তি থাকতে পারে কিন্তু আমাদের দাবি একটাই। এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা নেই। ওদের যদি কোনো সমস্যা না থাকে, তবে বিকেলে আমরা একসঙ্গে শাহবাগে বসে যান চলাচল বন্ধ করে দিতে পারি।’
পরে প্রস্তাব নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা ওই পক্ষের কাছে যান। সেখানে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক, সাবেক সভাপতি খান আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বাপ্পাদিত্য বসুর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঐক্যের প্রস্তাবে আলোচনা হচ্ছে। দুই পক্ষই মোটামুটি রাজি হয়েছে। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব। গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তি থাকলে সরকার সব সময় এর সুবিধা নিতেই থাকবে। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির প্রশ্নে গণজাগরণ মঞ্চ কোনো আপস করবে না।’
কামাল পাশা চৌধুরী পক্ষের এক সংগঠক এফ এম শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা নেই। আলোচনা করে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে।’
ইমরান এইচ সরকারের পক্ষে খান আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন সবার। এখানে সবাই এসে প্রতিবাদ জানাতে পারে। আমাদের সঙ্গে যারাই আসুক, কাউকেই তো আর বাধা দেব না!’ দুই অংশ এক হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছে। ইমরান এইচ সরকার হাসপাতালে থাকায় তাঁর সঙ্গেও আলোচনার প্রয়োজন আছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি সংবাদ সম্মেলন করে আপনাদের জানাব।’

বাঘ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আসুন সকলে মিলে আমরা বাঘ বাঁচাই, প্রকৃতি বাঁচাই। এ ক্ষেত্রে আমাদের সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।’

আজ রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাঘ-অধ্যুষিত দেশগুলো ও গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ পার্টনারসের দ্বিতীয় বিশ্ব বাঘ স্টকটেকিং সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।

বাংলাদেশসহ বাঘ-অধ্যুষিত দেশগুলোকে বাঘ সংরক্ষণে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ লক্ষ্যে তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি যে বাংলাদেশসহ বাঘ-অধ্যুষিত দেশগুলোর বাঘ সংরক্ষণের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাঘ-অধ্যুষিত দেশগুলোকে তাদের পূর্ববর্তী পরিকল্পনা পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়নে কৌশল উদ্ভাবনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমরা বিশ্ব বাঘ সংরক্ষণ পরিকল্পনার তিন বছর পাড়ি দিয়েছি—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এখন আমরা বাঘ রক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছি।’

শেখ হাসিনা সুন্দরবন রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাঘ রক্ষা করে সুন্দরবনকে, আর সুন্দরবন রক্ষা করে বাংলাদেশকে।

বাঘ সংরক্ষণে বিশ্বব্যাংকসহ গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল টাইগার ফোরাম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় বাংলাদেশ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বন বিভাগ তিন দিনের এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। বাঘ রক্ষার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর্যালোচনা ও এই লক্ষ্যে একটি সুপারিশ প্রণয়নে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সচিব মো. নজিবুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোহানেস জাঠ, গ্লোবাল টাইগার ফোরামের মহাসচিব রাজেশ গোপাল, গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এন্ড্রু ভি কুশিন ও বন বিভাগের প্রধান কনজারভেটিভ কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বাঘ সংরক্ষণে মুখ্য ভূমিকা পালনের জন্য সম্মেলনের আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতীকী প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়।